সময়টা বিশ শতকের পাঁচের দশক। সবে দেশ ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হলেও পুরোপুরি সুস্থির হয়ে ওঠেনি। দেশ ভাগের দগদগে ঘা, বাংলার দুর্ভিক্ষের ক্ষত, তেভাগা আন্দোলনের রেশ, একান্নবর্তী পরিবারের ভেঙে টুকরো টুকরো হওয়া, আবার পনেরোই আগস্ট এলেই তেরঙ্গা পতাকার সঙ্গে মুড়ি, বোঁদে, সেদ্ধ ছোলা বিতরণ, বিনোবা ভাবের হেঁটে যাওয়া বাড়ির সামনের পাকা সড়ক দিয়ে—এসবই জন্মের পর থেকে দীপু দেখছে। দীপু, দীপ্যমান সেন পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র বন্দর তাম্রলিপ্তের এক ক্ষয়িষ্ণু জমিদার বাড়ির ছেলে। দীপ্যমান অবাক বিস্ময়ে প্রকৃতি থেকে মনুষ্য স্বভাব অবলোকনে মগ্ন হয় শৈশব থেকেই। সে নারীর প্রাকৃতিক নিয়মে রক্তমাখা কাপড়কে লাল পতাকা করে আকাশে ওড়াতে দ্বিধাহীন আবার অবৈধ শরীর সর্বস্বতাকে ভাবে সাপ ও ব্যাঙের খেলা।
দীপুর জীবনেও আসে শরীর। আসে কবিতা। আসে রং-তুলি। আসে নদী ও নারী। আবার এইসব হেলায় তুচ্ছ করে সে বেরিয়ে পড়ে অন্য কোথাও, অচেনা কোনওখানে!
‘অসম্পূর্ণ দীপপুরাণ’ আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের পোস্টমর্টেম। জীবনের কাটাছেড়া ও নির্মম নগ্ন সত্যকে শিল্পীর তুলিতে আঁকার প্রয়াস।
এক কথায়, বাংলার আধা-ঔপনিবেশিক ও আধা-সামন্ততান্ত্রিক চালচিত্রে ইতিহাস অন্বেষণ। যেখানে তাম্রধ্বজ রাজার বীরত্ব, বর্গভীমা মন্দিরের লোককথা, চৈতন্যের আগমন, বৌদ্ধ চেতনা, অতীশ দীপংকর, সুং সাং থেকে ফা-হিয়েন, পর্তুগীজ ও হিন্দুদের পাশে মুসলমানদের পড়শিবোধ, সবার উপরে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকা গ্রামীণ লোকাচারের পাশে দারিদ্র একাকার।